ব্লগ এবং ভিডিও: কোনটি শ্রেষ্ঠ এবং অধিক কার্যকর?

রিয়ালের চমকপ্রদ জয় বার্সেলোনার শিরোপা উদযাপনকে পিছিয়ে দিলো!

 

রিয়ালের চমকপ্রদ জয় বার্সেলোনার শিরোপা উদযাপনকে পিছিয়ে দিলো!

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে একটি চমকপ্রদ ম্যাচ উপভোগ করল ফুটবল জগত। বার্সেলোনার খেলোয়াড় এবং তাদের অসংখ্য সমর্থকের দৃষ্টি ছিল এই ম্যাচের দিকে। ১১ মিনিটে মায়োর্কার সেন্টারব্যাক মার্তিন ভালিয়েন্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দিলে কাতালান শিবিরে আনন্দের ঢেউ উঠেছিল। প্রথমার্ধ ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর অনেকেই হয়তো বার্সার লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। 

কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ অন্য কিছু ভাবছিল। বিরতির পর ৬৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের অসাধারণ গোলে লস ব্লাঙ্কোস সমতায় ফিরে আসে। নাটক তখনও শেষ হয়নি! যোগ করা সময়ের (৯৫ মিনিট) মাথায় ২০ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ইয়াকোবো রামোন গোল করে রিয়ালকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। এই অপ্রত্যাশিত জয়ের ফলে বার্সার লা লিগা শিরোপা জয়ের অপেক্ষা আরও কিছুটা দীর্ঘ হলো।

গতকাল রাতে মায়োর্কার বিরুদ্ধে রিয়ালের পরাজয় হলে হান্সি ফ্লিকের দলের লিগ জয় নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এই কঠোর অর্জিত জয় বার্সার সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা সৃষ্টি করেছে। তবে বার্সা সমর্থকদের জন্য অপেক্ষার সময় খুব বেশি দীর্ঘ নয়। আজ রাতেই কাতালান ডার্বিতে এস্পানিওলের বিরুদ্ধে তারা মুখোমুখি হবে। ওই ম্যাচে জয়লাভ করলে Blaugrana তাদের ২৮তম লিগ শিরোপা নিশ্চিত করবে। 

বর্তমানে ৩৫ ম্যাচে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা, আর ৩৬ ম্যাচে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিদায়ী কোচ কার্লো আনচেলত্তির রিয়াল মাদ্রিদ।

গতকাল রাতে মায়োর্কার বিরুদ্ধে রিয়ালের পরাজিত হলে হান্সি ফ্লিকের দলের লিগ জয় নিশ্চিত হয়ে যেত। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এই কঠোর অর্জিত জয় বার্সার সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা সৃষ্টি করেছে। যদি বার্সা আজ তাদের নগর প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করতে পারে এবং রিয়াল মাদ্রিদ তাদের পরবর্তী দুটি ম্যাচে জয়লাভ করে, তাহলে লেভানডফস্কি-রাফিনহা-ইয়ামালদের জন্য শিরোপা অর্জন করা সম্ভব হবে না।

ম্যাচের শুরুতে বার্নাব্যুর প্রায় খালি গ্যালারির সামনে ১১ মিনিটে রিয়ালের বক্সের ভেতর থেকে একটি চমৎকার কোণাকুনি শটে গোল করে মায়োর্কাকে এগিয়ে দেন ভালিয়েন্ত। এরপর রিয়াল মাদ্রিদ গোল শোধের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। অবশেষে ৬৮ মিনিটে এমবাপ্পে একক প্রচেষ্টায় গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে আনে। এই গোলটি ছিল সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই মৌসুমে ফরাসি তারকার ৫৪তম ম্যাচে ৪০তম গোল। স্পেনের পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে এর আগে কেবল একজন খেলোয়াড় তার প্রথম মৌসুমে অন্তত ৪০টি গোল করতে সক্ষম হয়েছিলেন – ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে বার্সার হয়ে ৪৭ গোল করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো।


ম্যাচের অতিরিক্ত পাঁচ মিনিটে মায়োর্কার রক্ষণভাগের একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে রামোন বক্সের ভেতর থেকে জোরালো ভলিতে গোল করে রিয়ালকে জয় এনে দেন, যা বার্সার সমর্থকদের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রিয়ালের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা রামনের এটি সিনিয়র দলের হয়ে প্রথম গোল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিলে মায়োর্কার বিরুদ্ধে ১-০ গোলের জয়ে বার্সেলোনা ৪০টি শট নিয়েছিল। একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদ গতকাল ৩৯টি শট নিয়েছে। মায়োর্কার গোলকিপার লিও রোমান একাই ১১টি শট রক্ষা করেছেন। বার্সা ও রিয়ালের বিরুদ্ধে এই দুটি ম্যাচে মায়োর্কা মোট ৭৯টি শটের সম্মুখীন হয়েছে, যার মধ্যে ২৬টি লক্ষ্যে ছিল এবং রোমান ২৩টি সেভ করেছেন। অন্যদিকে, রিয়ালের বিরুদ্ধে মায়োর্কা মাত্র ৪টি শট নিতে সক্ষম হয়েছিল। ম্যাচে মোট ২৬টি কর্নার আদায় করা হলেও রিয়ালকে একটিও গোল হজম করতে হয়নি।

চোটের কারণে ১২ জন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অভাব সত্ত্বেও এই গুরুত্বপূর্ণ জয় অর্জনে স্বাভাবিকভাবেই খুশি রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। জয়ের পর তিনি মন্তব্য করেন, ‘১২ জন খেলোয়াড়ের চোট পাওয়া কিছুটা অদ্ভুত। তবে আমরা দলগত ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই অভাব কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। দলটি অসাধারণ খেলেছে এবং এই জয় তাদের প্রাপ্য ছিল।’

এখন দেখার বিষয় হলো, আজ রাতে এস্পানিওলের মাঠে বার্সেলোনা কিভাবে পারফর্ম করে এবং তারা কি তাদের ২৮তম লিগ শিরোপা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। রিয়াল মাদ্রিদের এই নাটকীয় জয় নিঃসন্দেহে লা লিগার শেষ কয়েকটি ম্যাচকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

Read in English.

মন্তব্যসমূহ